শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাবেক রাষ্ট্রপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোক র্যালী, কালো ব্যাজ ধারণ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত। শুক্রবার (৩০ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে ভাইস চ্যান্সেলরের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলীর নেতৃত্বে একটি শোক র্যালী বের হয়। র্যালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালীটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক উন্মোচিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠন এবং ছাত্রসংগঠন পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় অডিও বার্তার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. একেএম এম মতিনুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
তার বক্তৃতায় প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জিয়াউর রহমানের শিক্ষা, অর্থনীতি, কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। কর্মকর্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম রিপু ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ইউনিট ইবির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। তাঁরা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ জাতির মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শাহিনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি ও এস্টেট অফিস প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সিনিয়র অফিসার মাসুদুল হক তালুকদার, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুল, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক মো. আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশ, জাতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আরেকটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জাতীয় অগ্রগতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে।
====
তঘ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
ছবি : শেখ আবু সিদ্দিক