শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান প্রভাব, সুযোগ-সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে এক সেমিনার আজ ১০ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। "শেপিং আওয়ার ফিউচার: প্রিপেয়ারিং আওয়ারসেলভস টু থ্রাইভ ইন দ্য ইরা অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স" শীর্ষক এই সেমিনারটির যৌথ আয়োজন করে আইইইই (IEEE) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ এবং আইসিটি আইইউ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। দুপুর ১২:০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে সেমিনারটি শুরু হয়। এতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ আইসিটি (SAICT) এবং এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (EDGE) প্রজেক্ট। পাশাপাশি কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি সোসাইটি ও গণিত ক্লাব।
সেমিনারটির উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই এখন অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ একটি বিশাল জনসংখ্যার দেশ হলেও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।" উপাচার্য আরও বলেন, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তরুণদের প্রস্তুত হতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী—বিশেষ করে আইসিটি, কম্পিউটার সায়েন্স, সফটওয়্যার, ফুড টেকনোলজি এবং কেমিক্যাল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সঠিক পরিবেশ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এআই প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, "দেশে সাইবার ও যোগাযোগ নিরাপত্তার ঘাটতি পূরণে আইটি-ভিত্তিক গবেষণার বিকল্প নেই। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এআই যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে, তা মানব কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখছে।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে আইটি ও কম্পিউটার-ভিত্তিক গবেষণায় সরকার পর্যাপ্ত অর্থায়নে প্রস্তুত, যার জন্য প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জার্মানি সহ ইউরোপের দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে অ্যালামনাই ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ ইদ্রিস আলী তাঁর বক্তব্যে সেমিনারের মূল বিষয়টির গুরুত্ব ও সময়োপযোগিতা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের এ বিষয় থেকে স্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করার পাশাপাশি তা নিজেদের আয়ত্তে আনার আহ্বান জানান। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে এ সেশনে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইইই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের কাউন্সিলর অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম।
সেমিনারের টেকনিক্যাল সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির টিএইচএম ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সাইন্সেসের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. রহমতউল্লাহ খন্দকার। এছাড়া "Next-Generation Signal Processing in the 6G Era: From Drone Target Precision Sensing to Auditory Assistive Solutions" বিষয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকেরা অংশ নেন।
# সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মোঃ রাজিবুল ইসলাম
উপ-পরিচালক
তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
কুষ্টিয়া-৭০০৩