ইবির জুলাই ৩৬ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হল প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী নানা প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন ছিল। এতে ছিল হামদ-নাত পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা, গান, নাটক ও ডিবেটসহ বিভিন্ন মনোগ্রাহী সাংস্কৃতিক ইভেন্ট। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ও বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ এমতাজ হোসেন জুলাই ৩৬ টিভি হলে রুমে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা উপভোগ করেন। উপাচার্য জুলাই ৩৬ রিডিং রুম উদ্বোধন করেন। জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং একাডেমিক ও ক্যারিয়ার গঠনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি নিজের ছাত্রজীবনের লাজুকতা দূর করার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ, চিন্তাশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়া বিতর্ক চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও বিভাগভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ স্মরণে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের লালন করতে হবে। ক্লাসে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, একটি উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অষ্টম শ্রেণী এবং পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার যে সিদ্ধান্ত ছিল, তার ইতিবাচক ফলাফল আজকের সমাজে দৃশ্যমান হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফ্যান, লাইট বন্ধ রাখা ও হিটার ব্যবহারে সচেতন হতে নির্দেশ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই বৈচিত্র্যময় ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সরকার সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর হবে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ শাহীনুজ্জামান এবং হলের আবাসিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম
উপ-পরিচালক
তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
কুষ্টিয়া-৭০০৩