রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কর্মসূচি হিসাবে ইবিতে শোক র্যালি অনুষ্ঠিত, অর্ধনমিত ছিলো সকল ভবনের জাতীয় পতাকা
শহিদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতিচ্ছবি
-----------------------------------------ইবি ভাইস চ্যান্সেলর
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন উচ্চকিত কন্ঠস্বর, এক অনলবর্ষী ব্যক্তিত্ব এবং বক্তা। শহিদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতিচ্ছবি। তাঁকে হারিয়ে আমরা হারিয়ে ফেলেছি এক অমূল্য সম্পদ, বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক মানচিত্রের এক উদীয় নক্ষত্র। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা, প্রতিবাদী তারুণ্যের প্রতীক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের কর্মসূচি হিসাবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত শোক র্যালি পরবর্তী বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শহিদ হাদি চলে গেছেন কিন্তু তাঁর চেতনা, তাঁর রক্ত কণিকা আমাদের মধ্যে রেখে গেছেন। গুলিতে আহত হওয়ার পরে সারা বাংলাদেশে শহিদ হাদির পক্ষে যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে সেটাই প্রমাণ করে শহিদ হাদি লক্ষ হাদিকে জীবিত রেখে গেছেন। শহিদ হাদি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য যে প্রতিশ্রুতি রেখে গেছেন, আমরা তা ধরে রাখবো। তাহলেই হাদির রক্তের বদলা নিতে পারব। শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকারীকে অচিরেই বাংলাদেশে এনে বিচার নিশ্চিত করার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট দাবি জানান।
বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা যেন শহিদ শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতকে কবুল করেন এবং শহিদ হাদির চেতনা যেন আমাদের মাঝে চিরজাগ্রত থাকে। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা যেন শহিদ হাদিকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উঁচু মাকাম দান করেন, সেজন্য আমরা সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবো। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠান শেষে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দিন খান। প্রশাসন ভবনের সামনের চত্বর থেকে বেলা পৌনে ১২:০০টার দিকে ভাইস চ্যান্সেলর-এর নেতৃত্বে এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ মনজুরুল হক-এর উপস্থিতিতে ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতিবৃন্দ, হল প্রভোস্টবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ সহ বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারীবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি শোক র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও প্রশাসন ভবনের সামনের চত্বরে সমবেত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শোক র্যলি এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ রাজিবুল ইসলাম। শোক পালন উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভবনের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ছিলো।
রাজিবুল ইসলাম
উপ-পরিচালক
তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ