মাদ্রাসাগুলোতে ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতার উপর গুরুত্ব আরোপ করলেন ভাইস চ্যান্সেলর
কুষ্টিয়া কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম অ্যালামনাই পুনর্মিলনী। ৬ ডিসেম্বর দিনব্যাপী এই পুনর্মিলনীতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পুনর্মিলনীতে ছিল স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র, কুইজসহ নানা আয়োজন। এদিন সকাল দশটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম পর্বে আলোচনা সভা ও মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ বান্না’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।বিশেষ অতিথী ছিলেন ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু জাফর খান। আরও বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. তারিকুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, “আধুনিক যুগে যেন মাদ্রাসার ছাত্ররা গলিতে গলিতে গিয়ে চাঁদা না তোলে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা চাঁদা সংগ্রহে ঘুরে বেড়ায়, যা শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, পরিকল্পনা ও আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন অপরিহার্য। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় করতে হবে।”প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,“আপনাদের অনেকেই এখন উচ্চ পর্যায়ে আছেন। অসহায় ও গরিব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মর্যাদা ও শিক্ষার মান বাড়াতে পারেন।” অন্যান্য বক্তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্মৃতি, আবেগ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার এক ঐতিহ্য। তারা বলেন, পুনর্মিলনী পুরোনো সম্পর্ককে গভীর করে এবং ভবিষ্যতে সমাজ ও শিক্ষার অগ্রযাত্রায় একসঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
দ্বিতীয় পর্বে দুপুর থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জমে ওঠে মিলনমেলা। দীর্ঘদিন পর পরিচিত মুখগুলো দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। গান, আড্ডা, স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। র্যাফেল ড্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য আকর্ষণীয় আয়োজনে অংশ নিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলেন সবাই। মনে রাখার মতো এক অনন্দঘন দিন উপহার দিয়ে শেষ হয় কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার প্রথম অ্যালামনাই পুনর্মিলনী।
----
তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস